অক্টোবর ২০, ২০২০ ৫ : ৪৭ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / জেলা পরিচিতি / এক নজরে চুয়াডাঙ্গা

এক নজরে চুয়াডাঙ্গা

আজ থেকে প্রায় ৪শ’ বছর পূর্বে চুয়াডাঙ্গা শহরের গোড়া পত্তন হয়। এলাকাটি ছিল জলমগ্ন ও জঙ্গলে পরিপূর্ণ। এর আশপাশ দিয়ে এলাকার প্রধান নদী মাথাভাঙ্গা ও তার শাখা-প্রশাখা বয়ে যেত। স্থানটি ছিল একটি দ্বীপ। অসংখ্য নদীনালা-খালবিল থাকায় এখানে প্রচুর পরিমাণে মাছ পাওয়া যেতো। ফলে এখানকার আদি অধিবাসীরা ছিল মৎস্যজীবী।

খ্রিস্টীয়  ৮ম শতাব্দী পর্যন্ত এখানকার সঠিক ইতিহাস জানা সম্ভব হয়নি। একাদশ ও দ্বাদশ শতাব্দীতে এখানে পাল ও সেন বংশের রাজাগণ রাজত্ব করতেন।

রাজা লক্ষণ সেনের রাজত্বকালে ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বখতিয়ার খিলজী নবদ্বীপ আক্রমণ করে নদীয়ার অধিকাংশ স্থান দখল করে নেন। বাংলাদেশের নবদ্বীপ দখল হওয়াতে অনেক ধর্মপ্রচারক এদেশে  আগমন করেন। এই সময় চুয়াডাঙ্গার আশেপাশে অনেক দরবেশের আগমন ঘটে। তারা এসে ইসলাম ধর্ম প্রচার শুরু করেন। এদের কবর বিভিন্ন স্থানে এখনও বিদ্যমান আছে।

পরবর্তীতে বাংলার বার ভূঁইয়াদের অন্যতম রাজা প্রতাপ আদিত্যের অধীনে আসে। এর কিছুকাল পরে তা মোগল সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। মোগলরা নদীয়া রাজ বংশের প্রতিষ্ঠাতা ভবানন্দ মজুমদারকে এই এলাকা ইজারা দেয়। ভবানন্দের উত্তর পুরুষ কৃষ্ণচন্দ্র রায় ১৭২৮ খৃস্টাব্দে নদীয়ার রাজা হন। এই সময় চুয়াডাঙ্গার অনেক স্থান রাণী ভবানীর জমিদারীর অংশ ছিল।

১৭৫৭ সালে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর প্রাণভয়ে আরো লোকজন এখানে এসে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে শুরু করে। আস্তে আস্তে এলাকায় লোকসংখ্যা বাড়তে থাকে। ১৭৬৫ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ানী লাভ করে। পরবর্তীতে স্যার জোন শোয়েব প্রস্তাবক্রমে রাজস্ব আদায়ের সুবিধার্থে কালেক্টর প্রথা প্রবর্তিত হয়। এই সময় নদীয়া জেলা সর্বপ্রথম গঠন করা হয়। তখন ১৭৮৭ সাল।

নবাব আলীবর্দী খার আমলে মুর্শিদাবাদ জেলার সীমানার ইটেবাড়ি মহারাজপুর হতে চুলো মল্লিক মাথাভাঙ্গা নদী পথে সপরিবারে চুয়াডাঙ্গা শহরের উত্তর দিকে বসতি স্থাপন করেন। তিনি এলাকার নাম চুয়াডাঙ্গা রাখেন বলে জানা যায়। তিনি বসতি স্থাপন করার পর এই শহরে আস্তে আস্তে লোকসংখ্যা বাড়তে থকে। এই সময় জলপথেই বেশি মানুষ চলাচল করতো।

১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ এবং ১৮৬০/৬১ সালে নীল বিদ্রোহ দেখা দেয়। এই সময় নীল বিদ্রোহ দমন তথা প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য নদীয়া জেলাকে পাঁচটি মহকুমায় ভাগ করা হয়। এগুলো হল কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা।

১৮৬১ সালে চুয়াডাঙ্গা মহকুমা প্রতিষ্ঠিত হবার পর মিঃ এইচজেএস কটন-এর প্রথম মহকুমা প্রশাসক হন। প্রথম মহকুমার সদর দফতর ছিল দামুড়হুদা। পরে ১৮৬২ সালে ১৫ নবেম্বর রেলপথ চালু হবার পর সদর দফতর চুযাডাঙ্গায় স্থানান্তরিত করা হয়।

রেললাইন চালু হবার পর ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ব্যবসা করার জন্য লোকজন এসে বসতি স্থাপন করে। এদের মধ্যে রাজপুতনার মাড়োয়ারী সম্প্রদায় অন্যতম। বৃটিশ আমলে ৩৮ জন, পাকিস্তান আমলে ২২ জন ও বাঙলাদেশ আমলে ১১ জন মোট ৭১ জন মহকুমা প্রশাসক এখানে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগ হলে নদীয়া জেলাও ভাগ হয়। কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুর মহকুমার ২টি থানা পূর্ব পাকিস্তানের অংশে পড়ে। কুষ্টিয়াকে জেলা করা হয়। ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

১৯৮৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা মহকুমার বিলুপ্তি ঘোষণা করা হয়। এই সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা জেলার মর্যাদা লাভ করে। আজিজুল হক ভূঁইয়া প্রথম জেলা প্রশাসক নিযুক্ত হন। মোট ১৩ জন জেলা প্রশাসক এখানে কাজ করছেন। বর্তমান জেলা প্রশাসক সৈয়দ মাহবুব হাসান। এই সময় চুয়াডাঙ্গা মহকুমার চারটি থানাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। থানাগুলো হলো-আলমডাঙ্গা, জীবননগর, দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা।

এই জেলার উল্লেখযোগ্য ও প্রাচীন স্থানসমূহ হল : উজিরপুর, খোলদাড়ি, হারদি, আব্দুলবাড়িয়া, কার্পাসডাঙ্গা, জয়রামপুর, দর্শনা, দামুড়হুদা, জীবননগর, আলমডাঙ্গা, হাসাদহ, কমলাপুর, কুড়ুলগাছি, দত্তনগর, মোমিনপুর, খাসকররা, ঠাকুরপুর, বন্ডবিল, গোবিন্দপুর প্রভৃতি।

বর্তমানে এই জেলাটি  রাজধানী ঢাকা হতে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মাথাভাঙ্গা, ভৈরব, কুমার ও নবগঙ্গা নদীর পলল সমৃদ্ধ অববাহিকায় গড়ে ওঠা এই জনপদ আয়তনে খুব বড় না হলেও এর রয়েছে সমৃদ্ধময় অতীত। এখানে রয়েছে কেরু এন্ড কোং এর মত ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রাক্কালে সর্বপ্রথম চুয়াডাঙ্গাকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানী ঘোষণা করা হয়। পরবর্তিকালে নিরাপত্তা এবং কৌশলগত কারণে চুয়াডাঙ্গা থেকে রাজধানী মুজিবনগরে সরিয়ে নেয়া হয়।

ভৌগোলিক

আয়তন ১১৭০.৮৭ বর্গকিঃমিঃ
নিবার্চনী এলাকা
মোট ভোটার সংখ্যা ৭,০৯,৪১২ জন
পুরুষ

মহিলা

৩,৪৮,৩২৯ জন

৩,৬১,০৮৩ জন

উপজেলা
থানা
পৌরসভা
ইউনিয়ন ৩৫টি
মৌজা ৩৮০
নদী মাথাভাঙ্গা,ভৈরব, কুমার,চিত্রা,নবগঙ্গা
বদ্ধ জলমহাল

২০ একরের উর্ধ্বে

অনুর্ধ্ব ২০ একর

 

২৮ টি

৪৬ টি

উন্মুক্ত জলমহাল ০১ টি
হাট-বাজার ১০৩ টি
মোট জমি ১,১৬,১০৮ হেক্টর
মোট আবাদি জমি ৯৭,৫৮২ হেক্টর
ইউনিয়ন ভূমি অফিস ২৯ টি
পাকা রাস্তা ২,০৪৮.১৯ কিঃমিঃ
কাঁচা রাস্তা ২,২৮৭.৪১ কিঃমিঃ
আবাসন প্রকল্প

আশ্রয়ন প্রকল্প

১০ টি

০৫ টি

আদর্শ গ্রাম ১১ টি
খেয়াঘাট/নৌকাঘাট ১২ টি
 

জনসংখ্যা ভিত্তিক (২০১১ সনের আদম শুমারি অনুযায়ী)

জনসংখ্যা ১১,২০,০৯৮জন
পুরুষ ৫,৬০,২৯৯জন
মহিলা ৫,৫৯,৭১১জন
জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতিবর্গকিলোমিটারে৮৯২জন
পুরুষ- মহিলা অনুপাত ১.০৪: ১
পেশা

(কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল)

১,৭০,০০৭জন
এলজিইডি কর্তৃক বাস্তবায়িত গ্রোথ সেন্টার মোট ২০টি, ১৪ টি বাস্তবায়িত
 

শিক্ষা সংক্রান্ত

মহাবিদ্যালয় ১৯টি
মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৪০টি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৫৮টি
কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২টি
রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৫২টি
মাদ্রাসা (সকল) ৪০টি
 

অন্যান্য

বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১৪৬৭ মি.মি
বার্ষিক গড় তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩৭.১সে

সর্বনিম্ন ১১.২সে

সরকারি হাসপাতাল ৪টি
চুয়াডাঙ্গা জেলায় উন্নীত ১৬ ফেব্রুয়ারী ১৯৮৪
বর্তমান জেলা প্রশাসক সায়মা ইউনুস
ডাকঘর ৭৫ টি
বিদ্যুতায়িত গ্রাম পল্লীবিদ্যুৎ-২৫০
টেলিফোন গ্রাহক ১৯৮০ জন
টিউবওয়েল ১,১৭,৫২৪ টি
চুয়াডাঙ্গা- ঢাকা সড়কের দূরত্ব ২১৫ কিঃমিঃ
চুয়াডাঙ্গা- খুলনা সড়কের দূরত্ব ১৫২ কিঃমিঃ
চুয়াডাঙ্গা- কুষ্টিয়া সড়কের দূরত্ব ৪৭ কিঃমিঃ
চুয়াডাঙ্গা- যশোর সড়কের দূরত্ব ৯৪ কিঃমিঃ
নিবন্ধিত সমবায় সমিতি সমবায়- ৩২৮টি, বিআরডিবি- ১৪৩১টি
শিল্প কারখানা কুটির- ৪৯৪৪ টি, বৃহৎ- ২টি, ক্ষুদ্র- ৬৫৬ টি
পশু হাসপাতাল ৪টি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *