জুলাই ২৬, ২০২১ ৫ : ২৪ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / জঙ্গি অভিযানে গুলিবিদ্ধ গাভী : মরিয়মের কান্না

জঙ্গি অভিযানে গুলিবিদ্ধ গাভী : মরিয়মের কান্না

চারদিকে তখন জঙ্গিবিরোধী অভিযান নিয়ে আলোচনা। উৎসুক জনতার ভিড়। জঙ্গি আস্তানার ২০০ গজের মধ্যে জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা। তৎপর প্রশাসনের কর্মকর্তারা। ঠিক সেই সময় বেলা ১১টার দিকে নিষেধাজ্ঞা অঞ্চলের বাইরে একটি গাছের নিচে গুলিবিদ্ধ এক গাভি নিয়ে কান্নাকাটি করছেন গৃহবধূ মরিয়ম বেগম।

মরিয়ম বেগম জানালেন, জঙ্গি অভিযানে তাঁর গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা গাভিটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। আর মায়ের এই অবস্থা দেখে গাভিটির বাচ্চা মায়ের পাশেই অপেক্ষা করছে। এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এই গাভিটি কিনেছিলেন তিনি। এখন গাভিটি বাঁচানো যাবে কি না তা নিয়ে চিন্তিত।
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বজরাপুর গ্রামে জহুরুল ইসলামের বাড়িতে গতকাল রোববার ভোরে পুলিশের অভিযান চলে। জঙ্গিবিরোধী এই অভিযানে দুজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আটক হয়েছেন বাড়ির মালিক জহুরুল ইসলাম, তাঁর পুত্র জসিম উদ্দিনসহ তিনজন।
নিজ বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে এসে গুলিবিদ্ধ গাভিটি নিয়ে বসে আছেন মরিয়ম। তাঁর স্বামী বাবলুর রহমান ভ্যানচালক। শরিফুল ইসলাম (১৪) ও আশরাফুল ইসলাম (১১) নামে তাঁদের দুই ছেলে রয়েছে। কোনো চাষযোগ্য জমি নেই। দরিদ্র সংসারে কিছুটা সচ্ছলতা আনতে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গাভিটি কিনেছিলেন। গাভিটির একটা বাচ্চা হয়েছে। বর্তমানে ২ কেজি করে দুধ দেয় গাভিটি। বিক্রি করে ৭০ থেকে ৮০ টাকা পান। স্বামীর আয়ের পাশাপাশি এই টাকায় তাঁদের সংসার চলছিল।
মরিয়ম জানান, জহুরুল ইসলামের বাড়ির আনুমানিক ৫০ গজের মধ্যে তাঁদের বাড়ি। রোববার ভোরে হঠাৎ দেখতে পান বাড়ির চারপাশে পুলিশ। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ পান। এরপর সকাল ৭টার দিকে তাঁদের বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলে পুলিশ। বাড়ি ছেড়ে বেরুতে গিয়ে গোয়ালঘরের গরুটির দিকে তাকিয়ে দেখেন পেট দিয়ে রক্ত ঝরছে। কাছে গিয়ে দেখেন পেট ফুটো হয়ে কিছু একটা ভেতরে চলে গেছে। দ্রুত গাভিটি নিয়ে দূরে চলে আসেন। স্থানীয় পশুচিকিৎসক এসে বলেন, গাভিটি গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ওই চিকিৎসক গাভিটির চিকিৎসা দিয়েছেন। তবে গাভিটি উঠতে পারছে না। সারাক্ষণ মাথা নিচু করে শুয়ে আছে। মরিয়মের দরিদ্র সংসারের সম্বল এই গাভিটি বাঁচবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় মরিয়মের কান্না যেন থামতেই চায় না।

Check Also

জীবননগর -কালীগঞ্জ মহাসড়কের বৈদ্যনাথপুরে ঘাতক ট্রাক্টর কেড়ে স্কুল ছাত্রীর প্রাণ

আল-আমিন হাসাদাহ থেকেঃ শুকতারার আর যাওয়া হলো না অসুস্থ নানাকে দেখতে। নানাকে একটিবার শেষ দেখার সুযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *