মে ১৪, ২০২১ ১২ : ০৭ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / মহেশপুরে পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

মহেশপুরে পল্লী বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত

অমিত সরকার (মহেশপুর,ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি : মহেশপুরে পল্লী  বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পল্লী বিদ্যুতের প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক দিনে-রাতে অর্ধেক সময়ও বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। ফলে বিপাকে পড়েছে রোগী,শিশু, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও সব শ্রেণির মানুষ।

ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে প্রায় তিন মাস ধরে উপজেলার সব মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যোগাযোগ করেও কোনো ফল হচ্ছে না।

ঝিনাইদহ পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ফুলবাড়িয়া ও ভৈরবা বিলিং এরিয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে,মহেশপুর উপজেলায় ৬টি ফিডারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। ফিডারগুলো চালু রাখতে প্রয়োজন পড়ে দিনে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট ও রাতে ১০ থেকে ১১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অথচ দিনের বেলায় পাওয়া যাচ্ছে গড়ে ৪ মেগাওয়াট ও রাতের বেলায় ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এ বিদ্যুৎ দিয়ে ২ থেকে ৩টি ফিডার চালু রাখা যায়। বাকি ফিডারের গ্রাহকরা লোডশেডিংয়ের শিকার হন। প্রতিবার ১টি ফিডারে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হয়। এতে দিনে রাতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ছে মহেশপুর উপজেলা এলাকার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা। দিনের বেলায় কম হলেও রাতের বেলায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন এসব গ্রাহকরা।
উপজেলার ফতেপুরের বিপাশা খাতুন বলেন,এতো গরমে যেভাবে বিদ্যুতের সমস্যা হচেছ তাতে করে ছোট বাচছাদের নিয়ে খুবই ভোগান্তিতে পড়তে হচেছ, রাত্রে প্রায় ৫-৬ বার বিদ্যুৎ চলে যায় আসে ২-৩ ঘণ্টা পর।
শুনেছি হাসিনা সরকার বিদ্যুৎ দেবে দেশে নিরবিচ্ছন্ন এই কি তার নমুনা ,আবার ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছে।

উপজেলার বজরাপুর গ্রামের গ্রাহক দেবাশিষ  জানান, এমনিতে প্রচণ্ড গরম, তার মধ্যে বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং। দিনে রাতে ১০ – ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না কবে যে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে তা বলা মুশকিল। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে আরো জানান, রাতের বেলায় ঘন ঘন লোডশেডিং হতে থাকলে ছেলেমেয়ের লেখাপড়ার তো ক্ষতি হচেছ ,তার সঙ্গে চোর ডাকাতের উপদ্রব বাড়ছে ।

উপজেলার খালিশপুরের লেদ ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমরা সাধারণ ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দিন দিন আমাদের ব্যবসায় ধস নামতে শুরু করেছে। এদিকে ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারী-বেসরকারী  ও ব্যাংক-বিমা প্রতিষ্ঠান অচল হয়ে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কলকারখানা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিপণিবিতান ও কম্পিউটার ব্যবসা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

মহেশপুর পল্লীবিদ্যুৎ এরিয়া অফিসের ডিজিএম মো.রবিউল হক জানান, প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় অর্ধেক বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ার জন্য লোডশেডিং বেশি হচ্ছে । এতে আমাদের করণীয় কিছু নেই। চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ কবে থেকে পাওয়া যাবে তার কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

Check Also

কোটচাঁদপুরে চলছে ৫ দিন ব্যাপি ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা

কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে সুমনঃ হাজারো দর্শনার্থীর অংশগ্রহণে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা আর ধর্মীয় ভাব গাম্ভির্যের মধ্য …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *