অক্টোবর ২৮, ২০২১ ৪ : ৫৫ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / মহেশপুরে অসহনীয় লোডশেডিং এ তাল পাখার কদর এখন আকাশ ছোঁয়া

মহেশপুরে অসহনীয় লোডশেডিং এ তাল পাখার কদর এখন আকাশ ছোঁয়া

অমিত সরকার ,মহেশপুরে প্রতিনিধি : তোমার হাত পাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে” আকবরের সেই বিখ্যাত গানটির কথা হয়ত সবার মনে আছে । আজ মহেশপুরে অসহনীয় লোডশেডিং এ গরমে মানুষের পরম সঙ্গী এখন তালপাতার হাতপাখা পরম সঙ্গী হিসাবে ধরা দিয়েছে । মহেশপুরে উপজেলার পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জনজীবন  গত তিন চার মাস যাবত ভয়াবহ লোডশেডিং এ বিপযস্ত হয়ে পড়েছে। দৈনিক ১০ -১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচেছ এ উপজেলায় ,গরমের হ্ত থেকে বাঁচতে মানুষ এখন তালপাখা কিনতে ব্যাস্ত,গত কাল উপজেলার খালিশপুর হাটের ফুটপাতে গিয়ে দেখা যায় এই তাল পাখার দোকানের পাশে উপচে পড়া ভিড়, ২০ টাকার হাতপাখা বিক্রি হচেছ ৩০ টাকা দরে।
বিক্রেতা সানোয়ার হোসেন দিলু  জানান, এই তালপাখার বিক্রি এবার অনান্য বছরের তুললায় অনেক ভাল কারণ বিদ্যুৎ ঠিক মত না থাকার কারণে চাজার ফ্যানে গুলো একেবারে গরমে কাজে আসছে না, তাই মানুষ এই তালপাখার উপর ঝুকে পড়েছে।
ফুটপাতের আরেক বিক্রেতা আনন্দ দাস বলেন ,আমার বাসা কালিগজ্ঞ, আমি নিজে তালপাখা বানায়ে বিক্রি করি,বছরে ২/৩ মাস তাল পাখার বেশি চাহিদা থাকে। চৈত্র থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যস্ত বিক্রির মৌসুম হলেও চৈত্র ও বৈশাখ মাসই পাখা বিক্রির উপযুক্ত সময়। প্রচণ্ড তাপদাহ ও বিদ্যুতের লোডশেডিং এ সময়টাতে তালপাখার প্রয়োজন বেশি হয়ে থাকে। ফলে এ সময় তাদের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের অন্যান্য মাসে তালপাখার তৈরির কাজ ও বিক্রি চললেও শীত আসলে বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।

তিনি আরও জানান, পরিবারের ছোটরাও পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মায়েদের বিভিন্ন কাজে সহায়তা করে।

গত বছরগুলোর চেয়ে এ বছর একটি পাখাতে দাম বেড়েছে প্রায় ৩ টাকা। কিন্তু লাভ হচ্ছে কম। কারণ প্রতিটি জিনিসেরই দাম বেশি।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি পাখায় তৈরি পর্যন্ত প্রায় ৮ থেকে ১০ টাকা খরচ হচ্ছে। বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ টাকা টাকা। অবশ্য পাইকার ব্যবসায়ীরা উপরোক্ত দামে পাখাগুলি তাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়। তারা একটি পাখা ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি করে। অবশ্য খুব গরমে হাত পাখার চাহিদা বেশি হওয়ায় একটি পাখা তারা ২৫ থেকে ৩০ টাকায়ও বিক্রি হয়।

তিনি আরও পাখা তৈরি করতে রং,সুতা, বাঁশ, কুঞ্চি, তালের পাতার প্রয়োজন হয়। একটি তালের পাতা ৫ টাকা দরে তারা কিনে থাকেন। আর যারা পাখা সেলাইয়ের কাজ করেন তারা পাখা প্রতি ১ টাকা করে পান। যারা ১০০ জাড়াসোলার কাজ করে তারা ১০ টাকা পান। সব মিলিয়ে একটি পাখা তৈরি করতে ৮ টাকার বেশি খরচ হয়। বিক্রি করা হয় ১০ থেকে ১২ টাকায়। একজন কারিগর প্রতিদিন ৬০ থেকে ৭০টি তালপাখা তৈরি করতে পারেন। ফলে প্রতিটি কারিগর বিক্রির মৌসুমে দিনে যাবতীয় খরচ বাদে প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় করতে পারেন। পাইকাররা এখন বাড়ি থেকেই পাখা কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

স্থানিয় একজন ক্রেতা দিলু মিয়া বলেন, গরমে বিদ্যুতের যে অবস্থা তাতে জীবন বাঁচাতে হাত পাথার কোন বিকপ্ল নেই আমি চার টা পাখা কিনেছি ১০০ টাকা দিয়ে।

Check Also

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইয়াছির আরাফাত পলাশ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কোটচাঁদপুর উপজেলা নিবাশি ও চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *