অক্টোবর ১৯, ২০২১ ২ : ৩০ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / মহেশপুরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকো পার্ক এখন শুধু গো-চরণ ভূমি

মহেশপুরের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ইকো পার্ক এখন শুধু গো-চরণ ভূমি

অমিত সরকার (মহেশপুর,ঝিনাইদহ)প্রতিনিধি :-
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার খালিশপুর বাজারের কপোতাক্ষ নদের পাড়ে নীল কুঠি কাছারি বাড়ির জায়গাটি বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান ইকো পার্ক করার উদ্যোগ গ্রহন করা এবং ৩১ শে অক্টোবর/১৬ তারিখে এলাকার কিছু লোকজন নিয়ে ইকো পার্ক হিসেবে ঘোষণা দেয় উপজেলা প্রশাসন । গত ৭ মাসে কোন কার্যক্রম নেই। সেটি এখন গো-চরণ ভূমিতে পরিনত হয়েছে।
কপোতাক্ষ নদের পাড়ে খালিশপুর গ্রাম। বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমানের নামে বর্তমানে এই গ্রামটির নামকরণ করা হয়েছে হামিদনগর। এই গ্রামে তার নামে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় করা হয়েছে এবং করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান কলেজ যা বর্তমানে সরকারীকরণ করা হয়েছে। কলেজের সাথে স্মৃতি পাঠাগার এবং এর সামনে সমাধি করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠের মায়ের। গত ৩১/১০/১৬ইং তারিখে সকালে উপজেলা প্রশাসন এলাকার মানুষ নিয়ে নীল কুঠির কাছারি বাড়ীকে ইকো পার্ক তৈরী করার ঘোষণা দেয়। এখানে প্রায় সরকারের ৩৭ বিঘা জমি রয়েছে। গত ৭ মাসে ঐ ইকো পার্কের উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি হয়নি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশাফুর রহমান এটিকে তড়িঘড়ি করে ইকো পার্ক করার ঘোষণা দেওয়ার পর সরকার বা জনপ্রতিনিধিরা কোন কার্যক্রম করেনি। এটি ঘোষণা দেওয়ার পরপরই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা পরিষদের সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে দ্রুত সৃষ্টি হয়। এরপর একে একে মহেশপুর পৌরসভার মেয়র আব্দুর রশিদ খান ও স্থানীয় এমপি মোঃ নবী নেওয়াজের সাথে দ্রুত সৃষ্টি হয়। এ সকল বিরোধের কারণে ইকো পার্কটি আর আলোর মুখ দেখেনি। সেটি কাগজে কলমে ফাইল বন্দি হয়ে পড়ে। কিন্তু পার্কটি আধুনিক মানের নির্মাণ করা হলে পর্যটকদের কাছে দৃষ্টি নন্দন হয়ে উঠত। যার রয়েছে অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য।
ঐতিহাসিকদের মতে, ১৮১১ সালে কোটচাঁদপুরের দুতিয়ার কাঠি কুঠির মালিক মিঃ ব্রিজবেন খালিশপুরের নীল কুঠিরটি স্থাপন করেন। সে সময় খালিশপুর থেকে সাঁগরদাড়ি হয়ে কলকাতা পর্যন্ত ল  চলাচল করতো। তৎকালে খালিশপুরের কুঠি কাছাড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হতো। কলকাতা থেকে অনেক কুঠিয়াল সাহেব নদী পথে মাঝে মাঝে কাছারি বাড়ীতে আসতেন। ১৮০৫ সালে যশোর জেলায় অনেক ইংরেজ নীল ব্যবসায়ীর আগমন ঘটে এবং তারা বিভিন্ন স্থানে নীল কুঠি স্থাপন করেন। একাধিক নীল কুঠি নিয়ন্ত্রিত হতো কনসারণ অফিস দ্বারা সে সময় কাঠগড়া কনসারন অফিসের অধীন ছিল খালিশপুর নীল কুঠির। দক্ষিণ মুখি কুঠি ভবনটির দৈর্ঘ্য ১২০ফিট, প্রস্থ ৪০ফিট ও উচ্চতা ৩০ ফিট । দক্ষিন দিকে প্রশস্থ বারান্দা। ১২ কক্ষ বিশিষ্ট দ্বিতল ভবন এটি। দেওয়াল ২০ ইি  পুরু। নিচের তলার থেকে উপরের তলার কক্ষগুলি আয়তনে বড়। চুন, সুড়খী ও পাকা ইটের তৈরী। ২০০ বছরের পুরতন ভবনটি এখন ধ্বংসের দ্বাার প্রান্তে। গোসল করার পাঁকা সিড়ি নদীর নি¤œ পর্যন্ত নামানো যা এখনও ভগ্নদশা অবস্থায় আছে। ১৯৯৯ সালে কলেজ এবং ২০০৭ সালে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের নামে যাদুঘর স্থাপনের পর খালিশপুরের সুনাম বহুলাংশে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু নীলকুঠিয়ালদের অত্যাচার নির্যাতনের মর্মান্তিক কাহিনী এ অ লের মানুষ এখনও ভুলে যায়নি। কেননা ধ্বংস প্রায় নীল কুঠি তাদের মনে অতীত নিপীড়নের কথা জাগিয়ে তোলে।
জানা যায়, বৃটিশ শাসনামলে খালিশপুরে দুটি পতিতা পল্লী ছিল যার পৃষ্টপোষকতায় ছিল ইংরেজরা। ইংরেজ সাহেবদের মনোরঞ্জনের জন্য বহু পতিতা এখানে বাস করতো। নদীর কুঠি সিড়িতে ইংরেজরা ও পতিতারা একই সাথে গোসল করতো। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরও কিছু সংখ্যক পতিতা এখানে ছিল। ১৯৫৪ সালে স্থানীয় লোকজন তা উচ্ছেদ করে দেয়। কতশত করুন কাহিনীর ছাপ এই কুঠির দেওয়ালে লেগে আছে তা আজ কেউ বলতে পারে না।
২০০৭ সালের দিকে কুঠি বাড়িটি নিলাম দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েিেছল। এ সময় স্থানীয় জনতা ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা)মিলে মানববন্ধন করে গণমাধ্যমের সহায়তায় সে সময় নিলাম থেকে রক্ষা করা হয়। মহেশপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার অজিয়ার রহমান তৎকালীন প্রততœতত্ব বিভাগের কাছে কুটি বাড়িটি সংরক্ষন করার জন্য পত্র প্রেরণ করেন। এই ঐতিহাসিক স্থানটিকে বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহী হামিদুর রহমান ইকো পার্ক করার উদ্যোগ গ্রহন করায় এলাকার মানুষ খুবই খুশি হলেও বর্তমানে হতাশায় রয়েছে। এক সময়কার অত্যাচার বেদনার স্থানটি হবে আনন্দ খুশির স্থান। এটিই মানুষ কামনা করে।

Check Also

চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইয়াছির আরাফাত পলাশ

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ কোটচাঁদপুর উপজেলা নিবাশি ও চৌগাছার হাকিমপুর ইউনিয়নের যাত্রাপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের কর্মরত স্বাস্থ্য সহকারী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *