অক্টোবর ২৭, ২০২০ ৮ : ২২ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / বিনোদন / আমার দৃষ্টি কেবল চলচ্চিত্রে : শ্রদ্ধা কাপুর

আমার দৃষ্টি কেবল চলচ্চিত্রে : শ্রদ্ধা কাপুর

আলোকিত বিনোদন ডেক্সঃ বলিউডে শ্রদ্ধা কাপুর জনপ্রিয় একটি নাম। বিশেষ করে তরুণদের কাছে তাঁর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। চলচ্চিত্র পরিবার থেকে তিনি বলিউডে পা রাখলেও নিজের যোগ্যতায় সফল অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছেন। আর তাই বলিউড বক্স অফিসে শ্রদ্ধা কাপুর মানেই নতুন কিছুর প্রত্যাশা।

চলতি সপ্তহে মুক্তি পেয়েছে শ্রদ্ধা কাপুরের নতুন ছবি ‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’। মুক্তির কয়েক দিনের মধ্যেই ছবিটি বক্স অফিসে ভালো অবস্থানে তৈরি করে নিয়েছে। এদিকে ফিল্মফেয়ারের সঙ্গে নিজের মুক্তি পাওয়া ছবি, সম্পর্কের গুঞ্জন ও ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন শ্রদ্ধা।

‘হাফ গার্লফ্রেন্ড’-এর বিশেষত্ব কী?

শ্রদ্ধা কাপুর : এই প্রথমবার আমি মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছি। এটি একটি গভীর প্রেমের গল্প। এটি পাশের বাড়ির সাধারণ মেয়ের চরিত্র নয়। আমি ধনী রিয়া সোমনীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। সে ব্র্যান্ডের পোশাক পরে। বিলাস বহুল গাড়িতে আসা-যাওয়া করে এবং ব্লো-ড্রাইড চুল নিয়ে কলেজে যায়। মানুষ মনে করে সে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মেয়ে। কিন্তু ব্যাপারটি সেই রকম নয়। সে সহজ জিনিসগুলোতে আনন্দ খুঁজে পায়।

অর্জুন কাপুরের সঙ্গে আপনার কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শ্রদ্ধা কাপুর : খুব ভালো। আমি ভাগ্যবান কিছু দারুণ সহকর্মী ছিল, যারা একটা সময় পরিবারের মতো হয়ে গিয়েছিল। অর্জুনের ক্ষেত্রেও একই ব্যাপার। সে এটিতে মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করেছে। এ ছাড়া আমি তাকে ভালোবাসি কারণ সে একজন চমৎকার মানুষ।

চলচ্চিত্র পরিবার থেকে এসেছেন, আপনারা কি একে অপরকে চিনতেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : আমি তাকে আমার বেড়ে ওঠার দিনগুলো থেকে চিনি। সে আমার বড় ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের বন্ধু। আমি বরুণ ধাওয়ান এবং টাইগার শ্রফকেও চিনি। বরুণ আমার ছোটবেলার বন্ধু। আমাদের বিশেষ যোগাযোগ আছে। টাইগার শ্রফ বিদ্যালয়ে আমার ছোট। যখন আমরা একসঙ্গে ‘বাঘি’ করেছিলাম তখন ব্যাপারটি এমন ছিল যে, ওহ মাই গড, আমরা একে অন্যের বিপরীতে অভিনয় করছি! টাইগার অত্যন্ত নিবেদিত। আদিত্য রায় কাপুর এবং আমি খুব ভালো বন্ধু। আমরা দুটি ছবি করেছি- ‘আশিকী-টু’ এবং ‘ওকে জানু’। আমি তার সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করি।

মোহিত সুরির সঙ্গে এটি আপনার তৃতীয় ছবি।

শ্রদ্ধা কাপুর : তিনি হৃদয় দিয়ে ছবিটি নির্মাণ করেছেন। তিনি ভারতীয় শ্রোতাদের মানসিক অংশটুকু বোঝেন। দর্শকদের সঙ্গে সংযুক্ত রেখে তিনি প্রতিটি দৃশ্য উপস্থাপন করেছেন। এই কারণে তাঁর ছবিগুলো এত ভালো করে।

আপনি অপূর্ব লাখিয়ার চলচ্চিত্র ‘হাসিনা’তে অভিনয় করেছেন। বাস্তব চরিত্রে অভিনয় করা কঠিন ছিল?

শ্রদ্ধা কাপুর : হ্যাঁ, এটি কঠিন এবং চ্যালেঞ্জিং। আমি হাসিনার পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছি এবং তাকে বোঝার চেষ্টা করেছি। আমি যথারীতি কিছু ওজন কমিয়েছি। এই চরিত্রের জন্য আমি কিছু বই পড়েছি।

ভাই সিদ্ধান্ত কাপুরের সঙ্গে ফ্রেম ভাগাভাগি করতে কেমন লেগেছে? যিনি দাউদ ইব্রাহীমের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

শ্রদ্ধা কাপুর : আমি খুব স্নায়বিক চাপে ছিলাম কারণ আমরা একসঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করছি। কিন্তু অপূর্ব আমাকে বলেছিল, তোমাদের বাস্তব জীবনের রসায়ন পর্দায় দেখাও। উদ্বিগ্ন হবে না।

আপনি কি সুখের সঙ্গে সাফল্যকে অংশীদার মনে করেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : সাফল্য সুখের প্রধান কারণ। আমি যা করতে পছন্দ করি তাই করছি।

তারকা হওয়ার পর আপনি নিয়মিত বিষয়গুলো মিস করেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : কখনো কখনো আমি আমার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বকে মিস করি।আমি রাস্তায় হাঁটতে পছন্দ করি। আমি অবাধে শহরে হাঁটাচলা করা মিস করি। রাস্তার পাশের পানি পুরি মিস করি। এগুলো কিন্তু খুব সামান্য জিনিস। আমার সুন্দর বাড়ি আছে, ক্যারিয়ার আছে। মানুষ আমাকে ভালোবাসে। আমি আমার শৈশবের স্বপ্নগুলোকে নিয়ে বসবাস করছি।

ফারহান আখতারের সঙ্গে আপনার সম্পর্কের গুজব নিয়ে কী বলবেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : এই কথার  সত্যতা নেই এবং আমার দৃষ্টি কেবল চলচ্চিত্রে। আমি কোনো আবর্জনার মতো গল্পে নজর দিতে চাই না, যা কিছু মানুষ আমাকে নিয়ে লিখেছে। অভিনেতা হিসেবে আমরা কঠোর পরিশ্রম করি এবং ভালো অভিনয় করার চেষ্টা করি। প্রতিবেদকদের দায়িত্বশীল হওয়া উচিত, যখন তারা আমাদের সম্পর্কে লিখবে। গুজব সংযোজন করা ঠিক নয়। আমার পরিবারেও এর প্রভাব পড়ে। কিন্তু আমি এখন এটিকে এড়িয়ে চলতে শিখেছি।

অতএব আপনার সম্পর্কের অবস্থা কী?

শ্রদ্ধা কাপুর :  (হাসি) আমি একা।

এই একা থাকা কি কাজের প্রতি আপনার বাড়তি নজর দিতে সহায়তা করছে?

শ্রদ্ধা কাপুর : হ্যাঁ, এখন আমি একা থাকায় সুখী এবং কাজের দিকে নজর দিতে পারছি। এখন আমি এটির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছি না।

বছরের পর বছর ধরে আপনি নিজেকে কীভাবে আবিষ্কার করেছেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : আবিষ্কার করেছি যে, আমি মুডি। আমি মাঝেমধ্যে অলস এবং সহজে বিরক্ত হয়ে যাই। আমি খাবার পাগল। মিষ্টি পছন্দ করি। পুরোনো ছবি দেখতে পছন্দ করি। ক্যামেরার সামনে নাচতে, গাইতে পছন্দ করি।

একটি মানুষের মধ্যে আপনি কী পছন্দ বা অপছন্দ করেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : অসততা অপছন্দ করি।

অভিনয়ের বাইরে আপনি কী করেন?

শ্রদ্ধা কাপুর : আমি বাগান করতে, পড়তে, ছবি দেখতে এবং ছোট চাচাতো ভাইদের সঙ্গে সময় কাটাতে পছন্দ করি। আমি অল্প বয়স থেকে কবিতা এবং গান লিখছি। আমি ব্যক্তিগত দিনলিপি লিখতে পছন্দ করি। আমি আঁকতে পছন্দ করি। একদিন আমি বিশ্বের সামনে আমার শিল্পকর্ম দেখাতে চাই । হয়তো দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য বিক্রি করব। আমি আমার কবিতার বই প্রকাশ করতে চাই (হাসি), যে কারণে আপনি আমাকে কোথাও দেখতে পান না!

Check Also

‘পটল কুমার গানওয়ালার’ আর দেখা যাবেনা সেই পটলকে জনপ্রিয় সিরিয়ালে!!!

আলোকিত ডেক্স: বয়স মাত্র সাত, কিন্তু সকলের ঘরের মেয়ে হয়ে উঠেছে পটল। হিয়া দত্ত বলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *