জুলাই ২৬, ২০২১ ১২ : ২৮ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / সারাবাংলা / আজ আমার বাবা সাংবাদিক অধীর সরকারের ১ম মৃত্যুবাষিকী তে কিছু স্মৃতি চারণ। লেখক : অমিত সরকার

আজ আমার বাবা সাংবাদিক অধীর সরকারের ১ম মৃত্যুবাষিকী তে কিছু স্মৃতি চারণ। লেখক : অমিত সরকার

আজ থেকে ১ বছর আগে ঠিক  এ দিনেই আমার বাবা  ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেফ্রলজী বিভাগে দুটি কিডনি বিকল হয়ে মারা যান । মাথার উপর থেকে বট বৃক্ষের ছায়ার মত এতদিন যে মানুষটি আগলে রেখেছে আকস্মিক আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। এভাবে চলে যাওয়ায় আমরা হয়ে গেলাম অসহায়, সাংসারিক জ্ঞান বুঝার আগেই এ যেন জোর করে আমায় সংসারের দায়ীত্বভার বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন।এ বয়সেই অভিভাবকের দায়ীত্বে নিজেকে দেখব সেভাবে তৈরি করিনি বা কখনো ভাবিনি নিজেকে।আমার বাবা ছিলেন একজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিক এবং মানবধিকার কমী । মহেশপুর প্রেসক্লাবের সহ সভাপতির দ্বায়িক্ত পালন করছিলেন তিনি। তিনি খুলনার বহুল প্রচারিত দৈনিক পূবাঞ্চল এবং ঝিনাইদহের দৈনিক বীরদপনের মহেশপুর প্রতিনিধি ছিলেন এছাড়া মানবধিকার সংস্থা যশোর রাইটস্ এর হয়ে কাজ করতেন ।এছাড়া আমাদের খালিশপুরে একটা ফামেসি   ছিল, যা এখনো আছে। ছোটবেলায় বাবার হাতে ধরে লেখা-লেখি শেখা। কিভাবে নিউজ করতে হবে, কোনটা কিভাবে সাজাতে হবে সবই নিজ হাতে শিখিয়েছেন তিনি।  বাবা বিহীন জীবনে একটা ছেলে কি কি ধরণের বাধার সম্মুখীন হতে হয় তা আমি পদে পদে হয়েছে। কিন্তু তোমার আদশে’ অবিচল থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভাবে চলতে কোন পিছুপা হব না। সবই আবার আগের মত হয়ে গেছে, সবাই কম বেশি ভাল আছে শুধু নেই তুমি। জনো বাবা তোমার আদরের নাতি যাকে তুমি মাত্র 28 দিন বয়েসে দেখে চলে গিয়েছিলে ।সে আজ ঠিক তোমার মত ই হয়েছে, অনুরাগের এক বছর পূণ’ হয়েছে। তোমাকে পরিবারের সবাই প্রতিটা ক্ষণে মিস করে। মিস ইউ বাবা মিস ইউ লট।
আমার বাবা স্বর্গীয় ঈশ্বর  অধীর সরকারের ১ম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে মহেশপুরের বজরাপুরে গ্রামে আমাদের বাড়িতে ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান ও মহা প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করেছি।

২০১৬ সালে ৩ জুন ,বাবা ঢাকা মেডিকেল কলেজের নেফ্রলজী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।আর এই দিনে আমি আমার বাবাকে হারিয়েছি। পৃথিবীতে যার বাবা নেই সে বুঝে তার বাবার ভালোবাসা এবং গুরুত্ব। এখন প্রতি মহুর্তে অনুভব করি বাবার উপস্থিতি আমার কাছে কতটা প্রয়োজন।

মাঝি বিহীন নৌকা যেমন চালানো যায় না তেমনি বাবা ছাড়া নিজের জীবনকে সামনে এগিয়ে নেয়া অনেক কষ্টের। বাবাকে হারিয়েছি অনেক বছর হয়েছে; কিন্তু বাবার সেই স্মৃতি বাবার সেই উপদেশমূলক কথাগুলো আজও আমার অন্তরকে গভীরভাবে নাড়া দিয়ে যায়! আমি প্রতিদিন কিছু হলেও ভাল কাজ করার চেষ্টা করি বাবার আত্মা শান্তি কামনা করে। বাবাকে অনেক ভালোবাসতাম। এখনো অনেক মিস করি দুপুরে বাবার হাতে তুলে খাবার খায়য়ে দেওয়াকে, সেই দুষ্ট মিষ্টি বকা গুলোকে, সেই অভীমানি ভালবাসাকে।

বাবার ভালোবাসা, বাবার স্নেহ, বাবার আদর আজও আমার স্মৃতিতে সতেজ হয়ে ভাসে। আমার বাবা ছিলেন আমার আর্দশ। আজ বাবাকে আমার খুব প্রয়োজন ছিলো বাবার সাথে আমার অনেক কথা বলার ছিলো আমি বলতে পারিনি তাই মনের লুকানো কথাগুলো আজও কারো সাথে শেয়ার করতে পারিনি। বাবার আর্দশ, বাবার সততা, বাবার নৈতিকতা আমার কাছে অতুলনীয়।

তাই আমি বলবো যাদের বাবা বেচে আছে বাবাকে সম্মান করুন আপনার জীবন পরির্বতন হয়ে যাবে। আজ আমার বাবা নেই। সবাই আমার বাবার জন্য আশির্বাদ করবেন তিনি যেন স্বর্গবাসী হন।

লেখক– অমিত সরকার, সংবাদ কর্মী ও ব্যবসায়ী।

Check Also

মহেশপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মারপিটের প্রতিবাদে, হামলাকারী শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ।

অমিত সরকার (মহেশপুর)ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সাত্তারকে মারপিটের প্রতিবাদে হামলাকারী ফারুক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *