ডিসেম্বর ২, ২০২০ ৩ : ২৫ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / রাজনীতি : চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নির্বাচনী হালচালদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগের-৬ বিএনপির-৪ জামায়াত-১ ও জাতীয় পার্টি-১

রাজনীতি : চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে নির্বাচনী হালচালদলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আ.লীগের-৬ বিএনপির-৪ জামায়াত-১ ও জাতীয় পার্টি-১

হারুন রাজু : জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামি ২০১৯ সালের শুরুতেই। দিনক্ষন এখনো নির্ধারণ না হলেও নির্বাচনের বাকি রয়েছে প্রায় ১৭ মাস। এরই মাঝে ক্ষমতাশীন আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যেন ঘুম হারাম হয়ে গেছে। অবশ্য এখনো পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তেমন ততপরতা লক্ষ করা যাচ্ছেনা। অনেকের অভিমত, পূর্বের গড়া ভাবমূর্তি নিয় চুরান্ত পর্বে নামবে মাঠে। নেমেই বাড়াবে গতি। ক্ষমতাশীন দলের স্বয়ং সংসদ সদস্য থাকলেও ঢাকা থেকে কেউ হেলিকপ্টরে আসছেন, কেউ আসছেন দামী গাড়ী হাকিয়ে ঘুরছেন চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকা। তাদের দেয়া অধিকাংশ প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে উল্লেখ্য করা হচ্ছে। এ সব দেখে রাজীনিত পর্যবেক্ষক মহলের মন্তব্য, রাজনীতির ধরন বদলে গেছে। আগে নেতার মনে যায় থাকতো মুখে অন্তত জনসেবার ফুলঝড়িই ঝরতো। তার মধ্যে কিছুটা হলেও থাকতো জনসেবা। এখন ? নেতা মানেই যেন এমপি হওয়া। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ১০ম জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা-২ নির্বাচনী এলাকায় পরপর ২ বার নির্বাচিত হন আ.লীগ মনোনীত প্রার্থী হাজি আলী আজগার টগর। সে হিসেব মতো বর্তমান সরকারের মেয়াদকাল ৩ বছর ৭ মাস পেরিয়েছে। আগামি নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের মনোনয়ন প্রত্যাশিরা জনমত সৃস্টির জন্যে ছুটছেন শহর ও গ্রামগঞ্জে। করছেন সভা-সমাবেশ, পথসভা ও গণসংযোগ সহ কূশল বিনিময়। তুলনামূলকভাবে অন্যান্য দলের তুলনায় ক্ষমতাশীন দল আ.লীগের সাম্ভাব্য প্রার্থী সংখ্যা রয়েছে বেশী। একাধীক প্রার্থী মাঠে থাকায় কদর বাড়ছে তৃর্ণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মিদের। জাতীয় দিবস, ঈদ-পূজা ও বিশেষ দিনে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের ছবি সংবলিত দৃষ্টি নন্দন তোরণ, রং-বেরংয়ের বিলবোর্ড, ব্যানার ও পোষ্টার সাটিয়ে প্রার্থীতা জানান দেয়া হয়ে থাকে। বেশ আগে-ভাগেই নির্বাচনের মাঠ চষতে শুরু করেছেন ক্ষমতাশীন দল আ.লীগের ৬, বিএনপির ৪, জামায়াতে ইসলামীর ১ ও জাতীয়পার্টির ১ জন। আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে রয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের পরপর ২ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য, চুয়াডাঙ্গা জেলা আ.লীগের সহসভাপতি হাজি আলী আজগার টগর, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযাদ্ধা আজাদুল ইসলাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু, দর্শনা পৌর মেয়র, পৌর আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান, জেলা আ.লীগের সহসভাপতি নজরুল মল্লিক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের যুগ্নসম্পাদক, আমার সংবাদ পত্রিকার সম্পাদক হাসেম রেজা। এমপি আলী আজগার টগর নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের পাশাপাশি নেতাকর্মি ও সাধারণ জনগণের সাথে সোহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান আরো মজবুত করে রেখেছেন। জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আজাদুল ইসলাম আজাদ প্রবীন নেতা হিসেবে এলাকায় রয়েছে ব্যপক পরিচিতি। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনকালে এলাকার উন্নয়নের মধ্যদিয়ে নিজের পরিচিতি ও অবস্থান আরো শক্ত করেছেন মাহফুজুর রহমান মঞ্জু। দর্শনা পৌরসভায় ২ বার মেয়র নির্বাচিত হয়ে জনপ্রিয়তার সাক্ষর রেখেছেন মতিয়ার রহমান। শিল্পপতি নজরুল মল্লিক সম্প্রতি সময়ে ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছেন। কয়েকবার হেলিকপ্টর যোগে নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে এসে চমক সৃস্টি করেছেন হাসেম রেজা। বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশি ৪ জনের মধ্যে রয়েছেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির যুগ্নআহ্বায়ক শিল্পপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু, জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য হাজি ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপু, সাবেক ৩ বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাজি মোজাম্মেল হকের ছেলে জেলা বিএনপির সদস্য শিল্পপতি আতিকুল হক মিথুন ও দর্শনা পৌর বিএনপির সভাপতি, তরুণ শিল্পপতি মাহমুদুর রহমান তরফদার শাওন। এলাকার মসজিদ, মাদরাসা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের পাশাপাশি দলীয় কার্যক্রমে নিজের অবস্থান মজবুত করে রেখেছেন মাহমুদ হাসান খান বাবু। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুদান ও নির্বাচনী এলাকার নেতাকর্মিদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে নিজের পরিচিতি তুলে ধরেছেন ইঞ্জিনিয়ার মোখলেসুর রহমান তরফদার টিপু। সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাজি মোজাম্মেল হকের ছেলে হিসেবে আতিকুল হক মিথুনের পরিচয়ের নেই ঘাটতি। তরুণ সমাজ সেবক ও উদিয়মান শিল্পপতি মাহমুদুর রহমান তরফতার শাওন দর্শনা পৌর বিএনপির নেতৃত্বে মাধ্যমে নিজেকে তৈরী করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর একাধিক কোন প্রার্থী না থাকায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রুহুল আমীন বেশ আগেই দলের নমিনি নির্বাচিত হয়ে ফুরফুরে মেজাজে নির্বাচনী প্রচারণা অব্যাহত রেখেছেন। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশি দেলোয়ার হোসেন দুলু নেতাকর্মিদের নিয়ে মাঠ চষে পরিচিতি লাভ করছেন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসবে প্রার্থীর সংখ্যা ততই বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে নির্বাচনী এলাকার মানুষ।।

Check Also

জীবননগর -কালীগঞ্জ মহাসড়কের বৈদ্যনাথপুরে ঘাতক ট্রাক্টর কেড়ে স্কুল ছাত্রীর প্রাণ

আল-আমিন হাসাদাহ থেকেঃ শুকতারার আর যাওয়া হলো না অসুস্থ নানাকে দেখতে। নানাকে একটিবার শেষ দেখার সুযোগ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *