অক্টোবর ১৯, ২০২১ ১ : ২৪ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / সারাবাংলা / একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ,তত সরগরম হচ্ছে ঝিনাইদহ ৩ এর রাজনৈতিক অঙ্গন .

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে ,তত সরগরম হচ্ছে ঝিনাইদহ ৩ এর রাজনৈতিক অঙ্গন .

অমিত সরকার (মহেশপুর)ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সরগরম হয়ে উঠছে ঝিনাইদহ ৩ আসনের (কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর) এর  রাজনৈতিক অঙ্গন। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় কমিটি বা হাই কমান্ডেও যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি’র হেভি ওয়েট সব প্রার্থী। মনোনয়ন পেতে কেউ কাউকে ছাড় দিতে নারাজ। জোট গত নির্বাচন হলে এই আসনে লড়াই হবে প্রধান দুই দলের মধ্যে। ২০১৯ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-৩ আসনে (মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর) আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে চমক দেখা যেতে পারে বলে জানিয়েছে  দলীয় নীতিনির্ধারণী একাধিক সূত্র ।
অপরদিকে সরকারের সমলোচনার পাশাপাশি কৌশলগত প্রস্তুতি শুরু করছেন বি.এন.পি। ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগ ও বিএনপি এই দুই দলেরই মনোনয়ন প্রাত্যাশীর তালিকায় রয়েছেন প্রভাবশালী একাধিক প্রার্থী। এই আসনটিতে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে দলীয় কোন্দল রয়েছে, প্রার্থী মনোনয়নে ভুল হলে খেশারত দিতে হতে পারে উভয় দলেরই।
বতমানে এলাকায় দুই দলের  মনোনয়ন প্রত্যাশীদের এ দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। নিজের জনসমর্থন আদায়ে নির্বাচন  প্রচারণায় ও গণসংযোগ করে  ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।
জানা গেছে দল দুটির মনোনয়নপ্রত্যাশী দুই ডজনের বেশি নেতা মাঠে আছেন। গ্রামে-গঞ্জে গণসংযোগ করছেন তারা। উঠান বৈঠক, ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ঘরোয়া সমাবেশ করছেন।  সবাই নিজেকে যোগ্যতম প্রার্থী মনে করছেন।
সরকারি দল আওয়ামী লীগের অন্তত ১০ নেতা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের অনেকেই বিলবোর্ড ও পোস্টার টাঙিয়ে প্রচারে নেমেছেন। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনে মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন ৫ নেতা।
মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই ১৫ বছর। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দিয়ে দলীয় কার্যক্রম চলছে। নেতাকর্মীরা কিছুটা বিচ্ছিন্নভাবে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ জন্য অনেকে উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতাদের দায়ী করেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী নির্বাচনে কঠিন পরীক্ষায় অবতীর্ণ হতে হবে দলকে। অন্যদিকে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ শহিদুল ইসলাম মাস্টারের মৃত্যুর পর বিএনপি নানা গ্রুপে বিভক্ত। এই দলটিরও একাধিক নেতা মাঠে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি দলীয় মনোনয়নের আশায় ঢাকায় দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের অন্যতম বর্তমান সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ। বতমানে নির্বাচনী এলাকায় প্রচারণায় ব্যস্ত , দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করছেন তিনিও।
এই আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি শফিকুল আজম খান চঞ্চল।বতমানে সক্রিয় ভাবে তিন  নিবাচনী এলাকায় প্রচারণা এবং গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।এদিকে দলীয় মনোনয়ন পেতে কেন্দ্রে লবিং করছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সাজ্জাতুজ জুম্মা।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে আরও রয়েছেন মহেশপুর উপজেলার আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়াম্যান ময়েজউদ্দিন হামিদ, মহেশপুরের প্রিটি গ্রুপের পরিচালক ও সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি পারভিন তালুকদার মায়া, ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক এমএ জামান মিল্লাত, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহ-সম্পাদক মো. রেজাউল করিম টিটন। কোটচাঁদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শরিফুন নেছা মিকি, আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আলী ।
মহেশপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ সাজ্জাতুজ জুম্মা গনমাধ্যম কে বলেন, আমরা সব সময় দল গোছানোর চেষ্টা করেছি। অতীতে দল যাকে মনোনয়ন দিয়েছে, আমরা তার পক্ষে কাজ করেছি। আগামীতেও দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকে বিজয়ী করার জন্য আমরা কাজ করে যাব।
একসময় ঝিনাইদহ-৩ আসন ছিল বিএনপি জামায়াতের ঘাঁটি। তবে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন এসেছে। এ আসনের তিনবারের সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টার মারা যাওয়ার পর দলের নেতারা কয়েক ভাগে বিভক্ত। দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে অন্যতম হলেন মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান। শহিদুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রনিও দলীয় মনোনয়নের জন্য কেন্দ্রে লবিং ও এলাকায় গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন। তবে দলের কেন্দ্রীয় তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খানের নাম বেশি আলোচনায় আসছে।
এ ছাড়া সহআইনবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ও মহেশপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এমএ আহাদও মাঠে নামছেন। তবে একটি সূত্র জানায়, এ আসনে জোটগতভাবে নির্বাচন হলে কেন্দ্রীয় জামায়াতের শূরা সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে জোটের প্রার্থী করা হতে পারে।
এ ব্যাপারে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোমিনুর রহমান জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড তৃণমূলের নেতাদের দলে মূল্যায়ন করতে চাচ্ছে। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে জোটের প্রার্থী এবার পরিবর্তন হতে পারে।
এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে আবদুর রহমান এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
তিনি গনমাধ্যমকে বলেন,আসন্ন একাদশ সংসদ নিবাচনে জাতীয় পাটি ৩০০ আসনে ই প্রাথী দেবে,আমি ঝিনাইদহ ৩ আসনে জাতীয় পাটির একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী তবু দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে থেকে কাজ করে যেত চায়।

Check Also

মহেশপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মারপিটের প্রতিবাদে, হামলাকারী শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ।

অমিত সরকার (মহেশপুর)ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের মহেশপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সাত্তারকে মারপিটের প্রতিবাদে হামলাকারী ফারুক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *