অক্টোবর ২০, ২০২১ ৩ : ৩৩ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / জীবননগর / কাঁদো বাঙ্গালী কাদোঁ – মারুফ মালেক

কাঁদো বাঙ্গালী কাদোঁ – মারুফ মালেক

what ever the cost may be. we shall fight on the beaches. we shall fight on the landing grounds. we shall fight in the fields and in the street. We shall fight in the hills, we shall never surrender.

দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের প্রাক্কালে এভাবেই বৃটেনের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়ম চার্চিল তার দেশের সেনাদের উৎসাহিত করেছিলেন। যার ফলে সেদিনের হিটলার পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হন। এ কারনেই চার্চিলকে বলা হয় সেভিয়ার দ্য ন্যাশন। ১৯৭১ সালেও আমাদের নেতা জাতীর জনক এমনি একটি ঐতিহাসিক ভাষন দিয়েছিলেন। যে ভাষনে তিনি নিরস্ত্র বাঙ্গালীকে এক যাদুর কাঠিতে উজ্জীবিত করেছিলেন। “তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করবে। —আর আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি তোমরা সবকিছু বন্দ করে দেবে। আমরা ওদের ভাতে মরাব পানিতে মারব—–”
তার এই ভাষন মৃত্যুসঞ্জিবনী হয়ে বাঙ্গালিকে রণাঙ্গনে যেতে উৎসাহ দেয়। নিজের জীবন বলী দিয়ে বাঙ্গালী তার স্বাধীনতা আনে।
তিনি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশ দিয়েছেন। যার কল্যানে আমরা আজ বলতে পারছি আমার পরিচয় আমি বাঙ্গালী আমার দেশের নাম বাংলাদেশ। এই প্রথম বাঙ্গালি তার নিজেই নিজের ভাগ্য নির্ধারণের সুযোগ পেয়েছে। ১৯২০ সালে যার জন্ম এক অজপাড়াগায়ে। সেখান থেকে তিনি হয়ে উঠেন বাঙ্গালীর আশা আকাঙ্খার প্রতীক। সারা বিশ্বের মানুষ যাকে চিনেছে বিপন্ন মানবতার একমাত্র সুহৃদ বলে। যিনি ছিলেন বিশ্বের শোষিত মানুষের একান্ত আপনজন। সেই মহান মানুষটির আজ প্রয়াণ দিবস। জাতি তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে।
জাতির জনক যেদিন স্বপরিবারে নিহত হন সেদিনে যারা ভয়ে এবং স্বার্থে গর্তে মুখ লুকিয়েছিল তারাও আজ যেমন জীবিত তেমনি সেদিন যারা এই হত্যাকা-কে সমর্থন করেছিল তারাও আজ রয়েছেন। তবে প্রার্থক্য এই, সেদিন যেমন নৃশংস হত্যাকা-টি সমর্থন করে বক্তৃতা বিবৃতি দিয়েছিলেন, আজ অবশ্য তারা সেই ধৃষ্ঠতা দেখাতে পারছেন না। বরং তারা বিভিন্ন আলোচনা সভায় জ্ঞান গর্ভ বক্তৃতাও রাখবেন। এমনকি যেদিন এই হত্যাকা- ঘটেছিল আর যারা সেই নিমর্মকা-টি ঘটিয়েছিল তাদের ম-ুপাত করবেন এটাই স্বাভাবিক। তোষামোদকারীরা সব সময়ই আপা দেখে পলো ফেলেন।
আজ জাতীর জনকের ৪২তম শাহাদৎ বার্ষিকী। সারা দেশের নগর মহা নগর থেকে শুরু করে গ্রামীন জনপথেও এই অনুষ্ঠানটি হচ্ছে। কিন্তু
তার রেখে যাওয়া আদর্শের মানুষের বড়ই অভাব। দেশ আজ ঘুষ, খুন, ধর্ষণ, মাদক আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। সাধারন মানুষের জন্য আইনের সদর দরজায় তালা পড়েছে। প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনীতিবিদদের কাছে সাধারণ মানুষ মূল্যহীন। অপরাধীরা প্রশাসন এবং মন্ত্রী এমপিদের সাথে সখ্যতা করে ফ্রি স্টাইলে তাদের অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে। আবার এরাই মুখে জাতির জনকের আদর্শ বাস্তবায়নের জন্য নাকের জল আর চোখের জলের বন্যা বইয়ে দিচ্ছে। জাতীর জনকের আদর্শ থেকে যোজন যোজন দুরে থেকেও এরাই এখন মুজিব আদর্শের হোলসেল ডিস্ট্রিবিউটার।
জাতীর জনকের স্মৃতিকে সামনে রেখে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হচ্ছে। তারপরেও কোথায় যেন বেদনার সুর । সেই মহান নেতার কীর্তি এদের অতি তোষণের ফলে বিতর্কিত হয়ে পড়ে।
বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোন গাল গল্প ফাদার প্রয়েজেন নেই। তার জীবনে ঘটে যাওয়া কাহিনী আর জনগণের প্রতি তার ভালবাসা উল্লেখ করলে তার জন্য যত কাগজ লাগবে ততটা কাগজ আমাদের নেই। তাই তাকে নিয়ে কল্পিত কথার প্রয়োজন নেই। আমাদের কাজের মাঝে তার উপস্থিতি- আমাদের দেশ প্রেমকে জাগিয়ে দেবে।
ঘুষ দুনীর্তিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া গেলেই তাকে যথার্থ মূল্যায়ন করা হবে।
আমরা জাতীর পিতা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে এদেশকে গড়ে তুলবো। আজকের দিনে এই হোক বাঙ্গালির শপথ।

লেখক: কলামিস্ট ও সাংবাদিক

marufmalek1@gmail.com 

Check Also

জীবননগর মর্নিং স্টার ক্লাবের ফুটবল খেলা উদ্বোধন

জীবননগর প্রতিনিধি ঃ স্বাস্থ্য সু-রক্ষায় খেলাধুলার কোন বিকল্প নাই ,এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জীবননগর মর্নিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *