অক্টোবর ২০, ২০২১ ৩ : ৩৪ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / জীবননগর দোয়ারপাড়ায় খাস জমিসহ বাড়ী কেনা নিয়ে তৃমুখী বিরোধ

জীবননগর দোয়ারপাড়ায় খাস জমিসহ বাড়ী কেনা নিয়ে তৃমুখী বিরোধ

জীবননগর অফিস:
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার পৌর এলাকার দোয়ারপাড়ায় সরকারী খাস জমিসহ বাড়ী কেনাকে কেন্দ্র করে দু’টি পরিবারের মধ্যে সৃষ্ট ঘটনায় পৌরসভার পক্ষে দু’জন কাউন্সিলর থানা পুলিশের উপস্থিতিতে ভুমিহীনের বাড়ী ঘরে তালা মেরে দেয়া হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল তালা মারার পর ভুমিহীন রুহুল আমিন ওই তালা খুলে ঘরে প্রবেশ করায় গত শুক্রবার সকালে পৌরসভার দু’জন কাউন্সিলর প্রতিপক্ষদের নিয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে আবারও তালা ঝুঁলিয়ে দিলে বিপাকে পড়েন ভুমিহীন রুহুলের পরিবার
জীবননগর পৌর এলাকার দোয়ারপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে ভুমিহীন রুহুল আমিন রুলা(৩৩) বলেন,প্রতিবেশী শাহাজান আলীর স্ত্রী নুরজাহানের দখলে থাকা খাস জমিতে থাকা বাড়ী দীর্ঘ ৩-৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত থাকার পর আমার নিকট সম্প্রতি ৯০ হাজার টাকা নিয়ে বিক্রি করে দেয়। নুরজাহান তার বাড়ীতে আমাদেরকে উঠিয়ে দিয়ে যায়। আমি সাদা কাগজের মাধ্যমে তার নিকট থেকে জমিসহ বাড়ী ক্রয় করি। পরবর্তীতে নুরজাহান আবারও তার বাড়ীটি প্রতিবেশী আজিবরের নিকট বিক্রি করে দেয়। নুরজাহান বর্তমানে লক্ষীপুরে জমি কিনে সেখানে দালান বাড়ী করে বসবাস করছে।
এ ঘটনা নিয়ে আজিবরের সাথে আমাদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে নুরজাহান আজিবরের পক্ষ নিয়ে এলাকার রমজান,বিশা,আনারুলদের নিয়ে যেয়ে আমার ঘরে তালা মেরে দেয়। ঘটনাটি নিয়ে পৌরসভায় বিচার দেয়। আমি পৌর মেয়রের নিকট অনুরোধ করেছিলাম বিচারে যা হয় হবে,ঘরের ভিতরে আমার স্কুল পড়–য়া সন্তানদের বইগুলো বের করে দেয়া হোক। কিন্তু আমার সে দাবী রাখা হয়নি। ফলে আমার সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। ঘরের ভিতরে থাকা খাদ্য সামগ্রী পচে নষ্ট হয়েছে। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পরে নিজেই গত শুক্রবার সকালে তালা খুলে আমার ঘরে প্রবেশ করি। সেখানে হাজির হয় জীবননগর থানার হাবিব দারগা। কিছুক্ষণ পর যায় পৌর কাউন্সিলর আত্তাব উদ্দিন ও আবুল কাশেম। এর কিছুক্ষণ পর পৌরসভার গাড়ীতে করে নুরজাহান,রমজান,বিশা,আজিবর,আনারুল যায়। সেখানে কাউন্সিলর কাশেম পৌর কর্মচারী মজিবরকে তালা মারার হুকুম দিলে সে আমার ঘর থেকে সামান্য কিছু মালামাল বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা এখন খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি। আমার ঘরে চাল,ডাল থাকতেও খেতে পারছি না। ছোট ছোট ছেলে মেয়ে নিয়ে বড় অসহায় হয়ে পড়েছি। কাউন্সিলর ও দারগার সামনে গ্রামের অধিকাংশ লোকজন বলে যে,নুরজাহান নিজে আমার নিকট থেকে টাকা নিয়ে দখল বুঝিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু তাও তারা বিশ্বাস না করে আমার ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে গেল।
ভুমিহীন রুহুল আমিনের স্কুল পড়–য়া ছেলে শিহাব জানায়,ঘরে তালা মারার সময় আমার বইগুলো বের করে দিতে বললে কাউন্সিলর কাশেম যে তালা মারছিল তার ধমক দিলে সে তাড়াতাড়ি তালা মেরে দেয়। আর বলে তাড়াতাড়ী বের হয়ে যা।
দোয়ার পাড়া গ্রামের আকুবর আকু বলেন,নুরজাহান যেদিন ভুমিহীন রুলার নিকট খাস জসিসহ বাড়ী ঘর ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করে,সেদিন নুরজাহান রুলার বাড়ীতে খাওয়া-দাওয়া করে আমিসহ অনেক প্রতিবেশীর সামনে রুলা ও তার বউয়ের নিকট ঘরের চাবি বুঝে দিয়ে নুরজাহান তাদেরকে ঘরে তুলে দিয়ে যায়। এ ঘটনার কয়েকদিন পর আবার ওই বাড়ী ঘর আজিবরের নিকট বিক্রি করে বলে গন্ডগোল বাঁধে। আমরা সত্যি ঘটনা পৌরসভায় গিয়ে বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমাদেরকে কথা বলতে দেয়া হয়নি। গফুর ও হাফিজুর একই ভাবে বলেন,আমাদের ভুমিহীন রুলা ঘরে বসবাস করার কয়েক দিন পর নুরজাহান ওই জমি বাড়ী ঘর স্টাম্পের মাধ্যমে আবার বিক্রি করে আজিবরের নিকট। নুরজাহানের ওই বাড়ী ঘর ৩-৪ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়েছিল। সরকারী খাস জমি কি ভাবে স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি হয় তা আমাদের জানা নেই।
অভিযুক্ত নুরজাহান গত বৃহস্পতিবার বিবাদমান সমস্যা নিয়ে পৌরসভার বিচার বিভাগে প্রথমে জানান,রুহুল আমিন রুলারা তার ঘরে চারদিন ধরে বসবাস করার পর আমি আজিবরের নিকট বিক্রি করেছি। তার এ বক্তব্যের সাথে সাথে তা থেকে সরে এসে বলেন আমার মাথায় ঠিক নেই। আমি কি বলতে কি বলছি। আমি আগে আজিবরের নিকট বিক্রি করেছি। আর রুহুল আমিনের নিকট আমি জমি বিক্রি করিনি এবং তারা যে কাগজ দেখাচ্ছে তাতেও আমি সই করিনি।
কয়েকজন মহিলার সাথে কথা বলে জানা যায়,নুরজাহান নিজে তার ঘরের চাবি ভুমিহীন রুলার নিকট দিয়ে তার ঘরে উঠিয়ে দিয়ে যাওয়ার কয়েক দিন পর শোনা যায় সে আবার নাকি ওই ঘর আজিবরের নিকট বিক্রি করেছে। এখন যা ঘটছে ওই নুরজাহানের কারণেই ঘটছে। সরকারী জমি যদি সে দু’জায়গায় না বেচতো তাহলে তো এমন ঘটনা ঘটতো না।
জীবননগর পৌরসভার কাউন্সিলর আত্তাব উদ্দিন বলেন,কারো ঘরে তালা মারার ব্যাপারে পৌরসভার কি আইন আছে সেটা বড় নয় কিংবা মারা যায় কি-না সেটাও অন্য ব্যাপারে তবে মেয়র সাহেব ইচ্ছা করলে কোন কোন ক্ষেত্রে মারতে পারেন।
পৌর কাউন্সিলর আবুল কাশেম বলেন,বিবাদমান বিষয়টি নিয়ে পৌরসভায় বিচার সালিস চলছিল। যার পরবর্তী ধার্য তারিখ আগামী সোমবার। এ অবস্থায় পৌরসভাকে অমান্য করে রুলা ঘরের তালা খোলে। এখানে পৌরসভার মান-সন্মানের ব্যাপার। যে কারণে আমরা আবার ঘরে তালা মেরে দিয়েছি।
গংশ্লিষ্ট ওর্য়্ডা কাউন্সিলর সোয়েব আহমেদ অঞ্জন বলেন,আমি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। সেখানে একজন ভুমিহীন পরিবারের ঘরে তালা মারল,অথচ আমাকে ডাকা হল না। ব্যাপারটি কেমন হল তা আপনারাই বলেন। আমার জানামতে ভুমিহীন রুহুল আমিন নুরজাহানের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা দিয়ে খাস জমিসহ ঘরটি কিনেছে। একজনের ঘরের খাদ্য সামগ্রী,স্কুল পড়–য়া ছেলেমেয়েদের বইপত্র আটকিয়ে দেয়া অমানবিক। খাস জমি একবার নয় দু’-দুবার বিক্রি তাও আবার স্ট্যাম্পের মাধ্যমে এটা কি ভাবে সম্ভব তা সবার আগে খতিয়ে দেখা দরকার। আমার জানা মতে খাস জমি দখল যার জমি তার দখল সুত্রে। সেখানে পৌরসভা কিংবা অন্য কোন সংস্থা যদি হস্তক্ষেপ করেন তাহলে মনে হয় আইন মেনেই করা উচিৎ।এ ব্যাপারে নুরজাহান জানান,আমি রুলুর কাছে জমি বিক্রি করিনি এবং তার জমি দখল দেয়নি ।আমি শুধু আজিবারের কাছে ১লক্ষ ৫হাজার টাকায় বিক্রি করেছি । এটি কাউন্সিলার আবুল কাশেম যানেন তিনার সামনেই আমি স্টাম করে দিয়েছি ।রুলা জোরপুর্বক ভাবে আমার জমি দখল করার চেষ্ঠা করছে
জীবননগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন,পৌর মেয়র জাহাঙ্গীর আলম ওসি সাহেবকে ঘটনার ব্যাপারে ফোন দিয়েছিলেন। আমি ওসি সাহেবের কথা মত সেখানে যাই। সেখানে আমরা কাউকে উচ্ছেদও করতে যাইনি আবার কাউকে তুলে দিতেও যাইনি। সেখানে থাকা কালে কাউন্সিলর আবুল কাশেম ও আত্তাব উদ্দিন যান। তারপর আর কিছু লোকজন পৌরসভা থেকে যায়। পুলিশ কারো ঘরে তালা মারেনি। তালা মেরেছে পৌরসভার লোকজন। সেখানে ওই দুই কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

দৌলৎগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়।

মোঃ মিঠুন মাহমুদ জীবননগর(চুয়াডাঙ্গা)প্রতিনিধিঃ দৌলৎগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *