জুন ১৫, ২০২১ ৬ : ৩২ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / ধর্ম / বিসমিল্লাহর মহাত্ম্য ও গাণিতীক ব্যাখ্যা

বিসমিল্লাহর মহাত্ম্য ও গাণিতীক ব্যাখ্যা

আল কোরআন শুরু হয়েছে ‘বিসিমল্লাহির রাহ্মানির রাহিম’ দিয়ে। প্রতিটি সূরাও শুরু হয় এই আয়াতটি দিয়ে, শুধু সূরা তওবা ছাড়া। আরবিতে এই অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পরম পবিত্র আয়াতটি লিখতে ১৯টি আরবি হরফ লাগে। এই আয়াতটি সূরা ফাতিহার সাথে নাযিল হয়। বলা হয়, গোটা আল কোরআনে যা আছে তা আছে সূরা ইয়াছিনে। সূরা ইয়াছিনে যা আছে তা আছে সূরা ফাতিহাতে। আর সূরা ফাতিহাতে যা আছে তা আছে ‘বিসিমল্লাহির রাহ্মানির রাহিম’-এর মধ্যে। আরও বলা হয়, এই বিসিমল্লাহ শরীফে যা আছে তা আছে বিসমিল্লাহর বা অক্ষরের মধ্যে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে যে, ‘বিসিমল্লাহ’ শরীফের মর্যাদা অপরিসীম।

 

আল কোরআন শুরু হয় সূরা ফাতিহার ৭ আয়াত দিয়ে। বলা যায়, বিসিমল্লাহসহ ৮ আয়াত। আর শেষ হয় সূরা নাস-এর ৬ আয়াত দিয়ে। এখানে সংখ্যা তিনটি পরপর বসালে ৭৮৬ হয়। ৭৮৬ বিসমিল্লাহ শরীফের ১৯টি বর্ণের অংকগত মানের সমষ্টি। যা বিসমিল্লাহ শরীফের প্রতীক। সংখ্যা তিনটির যোগফল ৭ + ৮ + ৬ = ২১। তাহলে ৭৮৬ দিয়ে আল কোরআনের শুরু ও শেষে বিসমিল্লাহর দেয়ালে লক করা বা তালা মারা। ঊর্ধ্বাকাশে সমস্ত লকারের চাবি বা পাসওয়ার্ড হল ‘বিসিমল্লাহ’। বস্তুত ১৯ হল আল কোরআনের প্রহরী। যেমন ১৯জন ফেরেশতা সাকার নামক দোযখের প্রহরী। বিসিমল্লাহয় রয়েছে ১৯টি বর্ণ। উহার প্রতিটি বর্ণ একেকজন ফেরেশতা হতে বাঁচার জন্য একেকটা ঢাল স্বরূপ। কাজেই যে ব্যক্তি দোযখ রক্ষী ১৯জন ফেরেশতা হতে মুক্তি পেতে চায় সে যেন, ‘বিসিমল্লাহির রাহ্মানির রাহিম’ পাঠ করে।

 

উল্লেখ্য, ৭৮৬-এর পাশাপাশি ২১ এবং ১৯ সংখ্যা দু’টিও ‘বিসিমল্লাহ’ শরীফের প্রতীক। অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও লক্ষণীয় ব্যাপার হল ‘বিসিমল্লাহ’র প্রতীক ৭৮৬ রাসুল (স.) এর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখের প্রতিনিধিত্ব করে। জন্মতারিখ— ৮/৬/৫৭০ খ্রিঃ। যার প্রথম তিনটি সংখ্যার যোগফল ১৯ (= ৮ + ৬ + ৫)। আর চার সংখ্যা বা জন্ম তারিখের যোগফল ২৬ (= ৮ + ৬ + ৫ + ৭)। মৃত্যু তারিখ— ৭/৬/৬৩২ খ্রিঃ। যার প্রথম তিনটি সংখ্যার যোগফলও ১৯ (= ৭ + ৬ + ৬)। আর পাঁচটি সংখ্যা বা মৃত্যু দিবসের যোগফল ২৪ (= ৭ + ৬ + ৬ + ৩ + ২)। আর আরবিতে কালেমা তাইয়্যেবা লিখতে ২৪টি আরবি বর্ণ লাগে। তাহলে ৭৮৬ তে আমরা পাই, মৃত্যু ৭ জুন, জন্ম ৮ জুন। আর জুন মাসের সংখ্যা ৬।

 

আল কোরআনে মোট সূরার সংখ্যা ১১৪ যার প্রত্যেক সূরার প্রথমে ‘বিসিমল্লাহ’ আছে। শুধু ৯ নং সূরা তওবা ছাড়া। ১১৪ সংখ্যাটি ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। অন্যদিকে ‘বিসিমল্লাহির রাহ্মানির রাহিম’ লিখতে চারটি শব্দ ব্যবহূত হয়। ইসমে, রহমান, রাহিম ও আল্লাহ। গোটা আল কোরআনে ‘ইসম’ শব্দটি ব্যবহূত হয়েছে ১৯ বার। সূরা নামলের ৩০ নং আয়াত দ্বারা যদি পূরণ করা না হত ‘বিসিমল্লাহ’ তাহলে ‘ইসমে’ শব্দটি হত ১৮ বার যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। একইভাবে ‘রহমান’ শব্দটি হত ৫৬ বার, ‘রাহিম’ শব্দটি হত ১১৩ বার। ‘আল্লাহ’ হত ২৬৯৭ বার; যেগুলো ১৯ দ্বারা বিভাজ্য নয়। কিন্তু ‘রহমান’ শব্দটি এসেছে ৫৭ বার, ‘রাহিম’ শব্দটি এসেছে ১১৪ বার এবং ‘আল্লাহ’ শব্দটি এসেছে ২৬৯৮ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

 

১৯ পারার ২৭ নং সূরা নামলের ৩০ নং আয়াতটি হল— ইন্নাহু মিন সুলাইমানা ওয়া ইন্নাহু বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। অর্থাত্ “এটা সুলাইমানের কাছ হতে এবং এটা এই পরম দাতা দয়ালু আল্লাহর নামে।”

 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হল— ২১ নং সূরা আম্বিয়ার ৩০ নং আয়াতেই সৃষ্টি শুরুর প্রক্রিয়া বলা হয়। ২১ও বিসিমল্লাহর প্রতীক। এখান থেকে সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায় যে, ১৯ তত্ত্বই সৃষ্টির রহস্য উন্মোচন করছে এবং স্রষ্টার অস্তিত্বের প্রমাণ দিচ্ছে।

 

আল কোরআন প্রথম নাযিল হয় ৯৬ নং সূরার প্রথম পাঁচটি আয়াত দিয়ে। যাদের শব্দ ১৯। হরফ সংখ্যা ৭৬। যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। এই ৯৬ নং সূরা আলাক পরবর্তীতে ১৯ আয়াত বিশিষ্ট হয় যাদের হরফ সংখ্যা ২৮৫। যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য।

 

আল কোরআনে সংখ্যার উল্লেখ আছে ২৮৫ বার, যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। এই মহা গ্রন্থের ২৯টি সূরার প্রথম ভাগে ব্যবহূত ‘হরফে মোকাত্তায়াত’ (বিচ্ছিন্ন অক্ষর)-এর অক্ষর, শব্দের উপস্থিতি বা বন্ধন সংখ্যা ১৯ দ্বারা বিভাজ্য। একইভাবে ১১৪ থেকে ৯৬ নং সূরা পর্যন্ত গুনে আসলে ১৯ নং সূরা হয় সূরা আলাক। তিন আয়াত থেকে নয় আয়াত বিশিষ্ট সূরার সংখ্যা ১৯টি। ‘সাবাতুন’ শব্দটি কোরআনে ১৯ বার এসেছে। প্রতি ১৯ বছর পর সূর্য ও পৃথিবী একই বৃত্তে অবস্থান করে। হুজুর (স.) তার কাফেলা নিয়ে ১০ম হিজরীতে মদিনা থেকে ১৯ দিন পরে ৪ যিলহজ্ব মক্কায় পৌঁছান। (সাধারণত ১২ দিন সময় লাগত।) হুজুর (স.) মৃত্যুর পূর্বে ৮ রবিউল আউয়াল সোমবার ফজরের নামাজ পর্যন্ত মোট ১৯ রাকাত নামায হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ইমামতিতে আদায় করেন।

 

সৃষ্টির নকশায় সর্বপ্রথম মুহাম্মদী নূরকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। এতে মুহাম্মদী নূরকে একক বা এক ধরে চার দিয়ে ভাগ করলে হয় = ০.২৫। ০.২৫ সংখ্যা দু’টির যোগফল ৭ (২ + ৫ = ৭)। সৃষ্টি জগতের এটাই প্রথম অংক। আর এখানে প্রাপ্ত সংখ্যাগুলোর যোগফল ঃ (১+২+৪+৫+৭) = ১৯ কী অদ্ভুত ব্যাপার!

 

সৃষ্টির নকশায় ৯ এবং ১০ নং অংশ দিয়ে সৃষ্টি করা হয় সমস্ত আসমান ও জমীন। ৯ এবং ১০ যোগ করলে ১৯ হয়। আবার এখানে ভাগ করে প্রাপ্ত সংখ্যাগুলোর যোগফলও হয় ১৯ = ( ১ + ৫ + ৬ + ২ + ৫)।

 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিতভাবে দাবি করতে পারি যে, Mathematics Finds GOD অর্থাত্ ‘গণিত আল্লাহকে পেয়ে গেছে’।

 

এতে বোঝা যায়, ঈশ্বরকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। আমরা আজ মুখোমুখী মহাসত্যের। আমরা জানতে পারি মানুষ সৃষ্টির উদ্দেশ্য কী? কেন মহাবিশ্বের সৃষ্টি হয়েছে? কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে? জানতে পারি সৃষ্টির রহস্য। আরও জানতে পারি এই জীবন জীবন না— আরও জীবন আছে। এই জীবন নিয়ে যাবে সেই জীবনের কাছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, এই মহাবিশ্ব মানুষসহ সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এক সৃষ্টিকর্তা। যিনি সর্বশক্তিমান। যার অস্তিত্ব সর্বত্র সমানভাবে বিরাজমান। যিনি নির্ঘুম নিরলসভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন সমস্ত কিছু।

 

লেখক :অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইএফআইসি ব্যাংক

Check Also

Jibonnagor-Binjel

জীবননগর রায়পুর মারুফদাহে বেগুন চাষ করে কৃষক লাভবান

জীবননগর প্রতিনিধি : জীবননগর উপজেলা রায়পুর ইউনিয়নের মারুফদাহ গ্রামের রবিউল ইসলাম রবি ছেলে আছের আলী …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *