জানুয়ারি ২২, ২০২২ ৮ : ১৮ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / Tech / জীবননগরে পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমানের বিরূদ্ধে অভিযোগ গ্রাহকের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতঃ কেঁচো খুড়তে সাপের সন্ধান

জীবননগরে পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমানের বিরূদ্ধে অভিযোগ গ্রাহকের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতঃ কেঁচো খুড়তে সাপের সন্ধান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌছানোর লক্ষ্যে যেখানে সরকার নিরলসভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছে সেখানে কিছু অসাদু ইলেকট্রেশিয়ানদের কারনে গ্রাহক সর্বসাধারন তাদের খপ্পরে পড়ে আর্থিক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। আর প্রতারক ইলেকট্রেশিয়ানরা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাধারন গ্রাহকদের কাছ থেকে লুফে নিচ্ছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। এমনই জীবননগর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমানের বিরূদ্ধে। জানা যায়, উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের বাজদিয়া গ্রামের আব্দুর রহমান পেশায় একজন ইলেকট্রেশিয়ান। সে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের পশ্চিম বাড়ান্দি গ্রামের ফিরোজ আলীর কাছে থেকে তার পাঁচ ছেলে ডালিম, রহিম, সেলিম, সবুজ, মিলন এর বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে প্রত্যেক জনের কাছে থেকে ৫ হাজার টাকা করে নেয়। এবং একই গ্রামের সুলতানের ছেলে আমির হামজা ও আব্দুল আওয়ালের ছেলে জয়নালের কাছ থেকে পোল ও বিদ্যুৎ সংযোগ বাবদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা কৌশলে হাতিয়ে নেয় ও মৃত ইয়াকুবের ছেলে ফারুক হোসেন, মৃত আয়েব আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান হবি ও মরিয়ম এদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৬ হাজার করে টাকা হাতিয়ে নেন। একইভাবে রায়পুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের কাছ থেকে মিটার দেয়ার নাম করে ৮ হাজার টাকা নেয়। ইউনিয়নের নতুন চাকলা গ্রামের ৩০০ পরিবারের মাঝে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে অল্প কিছু সংযোগ দিয়ে ঐ গ্রাম থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ ছাড়াও যেখানেই বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য পোলের মাপ নেওয়া হয় সেখান থেকে মানুষদের কাছ থেকে পোল প্রতি ১ হাজার টাকা করে নেয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত সে কারো বিদ্যুৎ সংযোগ না দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। অভিযুক্ত ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমান রবিবার স্থানীয় একটি পত্রিকায় তার বিরূদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর ভুক্তভোগী ফিরোজ আলীকে নিয়ে দ্রুত রবিবার সকালে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জীবননগর সাব জোনাল অফিসে নিয়ে যেয়ে ফিরোজ আলীর মুখ কে বন্ধ রাখার জন্য এই ইলেকট্রেশিয়ান তার কাছ থেকে ২৪ ঘন্টা মধ্যে তার চার ছেলের বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার আশ্বাস প্রদান করেন এমন কথায় ব্যক্ত করেন ভুক্তভোগী ফিরোজ আলী। তিনি আরও জানান, পল্লী বিদ্যুতের ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমান গত ৪ বছর আগে আমার সহ আমার পাঁচ ছেলের এবং গ্রামের একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিদ্যুতের মিটার সংযোগ দেয়ার নাম করে আমাদের কাছে থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়। তার সাথে বিদ্যুত সংযোগের জন্য যোগযোগ করার চেষ্টা করলে ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমান আমাদের সাথে বিভিন্ন রকম ছল-চাতুরি করে আসছে। একই রকম অভিযোগ করে ইউনিয়নের নতুন চাকলা গ্রামের একাধিক ব্যক্তিরা জানান যে, আব্দুর রহমান মিস্ত্রী আমাদের গ্রামের ৩০০ মিটার দেয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা তার সাথে অনেক যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি কিন্তু সে আমাদের সাথে কোনরকম যোগাযোগ করছেনা। ভুক্তভোগীরা প্রতারক ইলেকট্রেশিয়ান মিস্ত্রী আব্দুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে সঠিক বিচারের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যুত সংযোগের জন্য তাদের দেয়া অর্থ ফেরত পেতে প্রশাষন ও সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানান। উক্ত বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্ত ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের জানান যে, আমার বিরূদ্ধে যে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কারও কাছে থেকে কোন প্রকার টাকা নেয়নি। আমাদের প্রতিনিধি ইউনিয়নের বালিহুদা গ্রামের ইউসুফ মন্ডলের ছেলে ডাঃ আব্দুর সবুর গ্রাহক পর্যায় থেকে টাকা গ্রহন করে আমাকে দেয়। সে কার কাছ থেকে কত টাকা নিচ্ছে তা আমি জানিনা। অভিযুক্ত প্রতারক ইলেকট্রেশিয়ান আব্দুর রহমানের বক্তব্যর প্রেক্ষিতে তার অভিযোগ করা প্রতিনিধি ডাঃ আব্দুর সবুরের সাথে কথা বলে জানতে চাইলে, সে আমাদেরকে বলেন যে, আব্দুর রহমান আমার বিরূদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে তা সঠিক নয়। আমি আমার গ্রামের অল্প কয়েকজনের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার নাম করে টাকা নিয়েছিলাম তারা বিদ্যুৎ সংযোগ পেয়েছেও। আব্দুর রহমানের সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেয়। এই বিষয়টি নিয়ে রায়পুর পুলিশ এ এস আই প্রদেশ কুমারের সাথে কথা বললে সেও সাংবাদিকদের বলেন যে, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান আমার কাছ ভুক্তভোগীদের ২৪ ঘন্টার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে এই মর্মে আমার কাছ থেকে সময় চেয়ে নেয় । উক্ত বিষয়ে মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জীবননগর সাব জোনাল অফিসের এজিএম সাদিকুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান যে, আমি সবে মাত্র এখানে যোগদান করেছি। আমি এখনও পর্যন্ত তার বিরূদ্ধে কোন অভিযোগ পায়নি। তবে অভিযোগ পাওয়া মাত্রই তার বিরূদ্ধে কঠিন আইননানুগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Check Also

দৌলৎগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীদের মতবিনিময়।

মোঃ মিঠুন মাহমুদ জীবননগর(চুয়াডাঙ্গা)প্রতিনিধিঃ দৌলৎগঞ্জ মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়নের দাবিতে জীবননগর ডিগ্রি কলেজের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীদের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *