অক্টোবর ২৭, ২০২০ ৯ : ২৯ অপরাহ্ণ
Breaking News
Home / সাহিত্য চর্চা / শ্রদ্ধাঞ্জলী বিপ্লবী ক্ষুধিরাম – চিত্তরঞ্জন শাহা চিতু

শ্রদ্ধাঞ্জলী বিপ্লবী ক্ষুধিরাম – চিত্তরঞ্জন শাহা চিতু

তেসরা ডিসেম্বর ‚ ১৮৮৯ ‚ জন্মিল এক ছেলে ‚
মেদিনীপুরের ছোট্ট গ্রামে ‚ লক্ষ্মীপ্রিয়ার কোলে ।
আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিল মা-বাবা ‚ তোমায় কোলে পেয়ে |
নিয়মমতো ‚ তিনমুঠি ক্ষুদের বিনিময়ে ‚
মা , তোমারে তুলে দিলেন বড়মেয়ের কোলে |
দিদি অপরূপা আর জামাইবাবু অমৃতলাল ‚
আনন্দেতে আত্মহারা ‚ পেয়ে স্নেহের দুলাল |
জামাইবাবু বদলি হয়ে গেলেন তমলুকে ‚
তুমিও চলিলে দিদির সনে ‚ সেই মুলুকে |
ভর্তি সেথা হয়েছিলে, হ্যামিলটন স্কুলে ‚
বিপ্লবীদের বাণী টানিলে বুকে ‚পাঠ্যবইয়ের স্থলে |
তমলুকে যবে দেখা দিল কলেরা ,মহামারী রূপে ‚
ছুটিয়া চলিলে ‚ সেবা করিবারে ‚ সমাজসেবী রূপে |
“মাতৃসদন” নামেতে ব্যায়ামের আখড়ায় ‚
যাত্রা করিলে শুরু ‚ নিত্য শরীর-চর্চায় |
তারইপরে যুক্ত হইলে_ গুপ্তসমিতিতে ‚
সত্যেন বোস ‚ রাজনারায়ণ ‚ হেমচন্দ্রের সান্নিধ্য পেতে |
চোদ্দ বছর বয়সেই তুমি ‚ পড়েছিলে কত জীবনী_
মাৎসিনি ‚ গ্যারিবল্ডি ‚ আরোকত- জ্ঞানীগুণী |
লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদের রোষে ‚
সুরেন্দ্রনাথ সম পূর্বসুরীরা হরতাল করিয়া বসে |
রবীন্দ্রনাথ করিলেন প্রয়াস ‚ রাখিবন্ধন করি ‚
সমস্ত কিছুই হইল ব্যর্থ ‚ বাংলা হইল দু-ভাগ ‚
সাল ১৯০৫ এ কার্জনের হাত ধরি |
৭ঐ আগষ্ট করিলে সকলে বিদেশী পণ্য বয়কট ,
সেপ্টেম্বরে ‚ রবীন্দ্র ‚ চিত্তরঞ্জন ‚সকলেই অকপট ।
লাঠিখেলায় ‚ আত্মরক্ষা ‚ শরীরচর্চা ‚ উভয়েই হয় ,
শক্তিমত্তা সব কাজেতেই দরকার হয়ে যায় ।
অক্টোবরে প্রতিবাদ-সভায় যোগ দিয়া ‚ জাহাজ ডুবাইলে ‚
দিদির আশ্রয় আর নিরাপদ নয় ‚ একথা বুঝিয়া গেলে ।
দিদিরে নিরাপদে রাখিবারে নিজেই বাহির হলে ।
নিশুত-রাতে চিঠি লিখে রেখে পলাইলে কিছু দূরে ,
মিলিল আশ্রয় , মুসলিম এক রমণীর ঘরে ।
তাঁত শিখাইয়া ‚ চালাইয়া , যার দিন গুজরান চলে ,
তবুও মাতৃস্নেহ পাইলে , সে-মায়েরই কোলে ।
সত্যেন বোস ‚ অরবিন্দ ‚ কাছটিতে ডাকিলেন ‚
“স্বদেশী ছাত্র ভাণ্ডারের” দায়িত্ব তুলিয়া দিলেন |
হইলে “বসন্তমালতী” আখড়ার প্রধাণ সহকারী ‚
এতো দায়িত্ব হাতে পেয়ে ‚ মন খুশীতে ভরিল তোমারি |
রাজা সুবোধ মল্লিক ‚ চারুচন্দ্র ‚ অরবিন্দ ‚ হেমচন্দ্র ‚
সবাই মিলিয়া বাঁধিলেন বোমা ‚ লক্ষ্য কিংসফোর্ড |
ব্যর্থ হইল প্রচেষ্টা ‚ দরকার আরো শক্তিশালী বোমা ,
প্রফুল্ল চাকী ‚ উল্লাসকর ,বারীণ দত্ত ‚ সকলে মিলিয়া ‚
বিদেশীদের মতই বানাইলেন প্রচণ্ড শক্তিশালী বোমা |
১৯০৮ এর এপ্রিল মাসে গেলে চলি “মতিঝিল ধর্মশালা” ‚
সেখান হইতে কিংসফোর্ড- বধের নির্দেশ পেয়ে ‚ আত্মহারা |
রাত সাড়ে-আটটায় ছুঁড়িলে বোমা ‚ গাড়ী লক্ষ্য করি ‚
অব্যর্থ লক্ষ্যভেদ ‚ দাউদাউ জ্বলিল গাড়ী |
দৌড়িয়েছিলে সঙ্গেসঙ্গে একটানা মাইল পঁচিশ ‚
ক্লান্তি , ক্ষমা করিলনা তোমা ‚ ধরিল এবার পুলিশ ।
তোমার নিকটে ‚ দুটি রিভলবার ‚ গুলি সাঁইত্রিশ রাউণ্ড ,
বমাল পড়ি ধরা ,নীরব রহিলে , নেই কোন সাউণ্ড ।
বাইশে মে‚ বিচারের প্রহসনে ‚ নরহত্যার অভিযোগে ‚
কোন মতামত না-শুনিয়াই ফাঁসীর আদেশ হইল |
আইনজীবীরা অস্বীকার করাইলেও হইলনা কোন লাভ ,
হাইকোর্টে এ্যাপীল ‚ নরেন বসুর সওয়াল-জবাব ।
সবই ব্যর্থ বিচার নামক প্রহসনের ফসল ,
তেরোই জুলাই প্রাণদণ্ডের আদেশই বহাল |
এগারো আগষ্ট ‚ ১৯০৮ ‚ ভোর ছটায় ‚
হাসিতে-হাসিতে ‚ “বন্দেমাতরম’ বলি দড়ি পরিলে গলায় |

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *