জুন ১৫, ২০২১ ৩ : ১৬ পূর্বাহ্ণ
Breaking News
Home / জাতীয় / বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া সেই শিশু পেল নতুন মা-বাবা!

বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া সেই শিশু পেল নতুন মা-বাবা!

আলোকিত ডেক্স- হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রেখে যাওয়া শিশু ফাতেমা পেল নতুন মা-বাবা। আজ বুধবার ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক হাফিজুর রহমান শিশু ফাতেমাকে এক দম্পতির জিম্মায় দিয়েছেন। ওই দম্পতি হলেন আইনজীবী সেলিনা আকতার ও বাবা ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন।

আগামী ২২ আগস্ট শিশুটিকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে তার আগে শিশুটির নামে পাঁচ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতে আদেশ দেওয়ার সময় বিচারক বলেন, নয়জন দম্পতি শিশুটিকে নেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সবাই উপযুক্ত। তাদের মধ্যে একজন দম্পতিকে বেছে নিতে হয়েছে। আদালত বলেছেন, শিশুটির প্রকৃত বাবা-মা যে কোনো সময় এসে চাইলে তাকে ফেরত দিতে হবে।

প্রসঙ্গত, ৯ আগস্ট অবুঝ শিশু ফাতেমার ‘বৈধ অভিভাবকত্ব’ নির্ধারিত হওয়ার কথা থাকলেও বিচারক অসুস্থ থাকায় তা পিছিয়ে বুধবার দিন ধার্য করা হয়। এদিন আবেদনকারী নয় দম্পতি থেকে শিশুটির বাবা-মা বাছাই করা হয়।

এর আগে শিশু ফাতেমার প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা বিমানবন্দর থানার উপ-পরিদর্শক আবু সাঈদ।

প্রতিবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আদালতের নির্দেশে বিমানবন্দরের ওইদিনের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এতে শিশুটির প্রকৃত বাবা-মাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। শিশুটির বাবা-মা দাবি করে কেউও লিগ্যাল নোটিশও দেয়নি। এছাড়া শিশুটি হারিয়ে গেছে মর্মে বিমানবন্দর থানায় কেউও জিডিও করেনি।

উল্লেখ্য, গত ৮ জুলাই জর্ডান থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে দেশে ফেরার পর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শিশু ফাতেমাকে রেখে যান জনৈক নারী। তিনি জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন।

ওইদিন একই বিমানে পাশাপাশি আসনে জর্ডান থেকে ফেরেন জয়দেবপুরের স্বপ্না বেগম। তিনিও জর্ডানে গৃহকর্মী হিসেবে গিয়েছিলেন। তবে স্বপ্নার সঙ্গে বিমানেই ওই অজ্ঞাত নারীর পরিচয় হয়।

স্বপ্না বেগম বলেন, ফ্লাইট অবতরণের পর সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে কাস্টমস থেকে মালপত্র নিয়ে বের হয়ে বিমানবন্দরের ক্যানওপি পার্কিং এলাকায় স্বজনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। ঠিক এমন সময় বিমানে তার পাশের আসনে পরিচয় হওয়া ওই নারী তার কোলে থাকা শিশুটিকে আমার কোলে দিয়ে বলেন, আপা আমার শিশুটাকে একটু রাখেন। ভেতরে মালপত্র রয়েছে, নিয়ে আসছি।

তিনি বলেন, বিমানে তার সঙ্গে কথা হওয়ায় সরল বিশ্বাসে শিশুটিকে কোলে তুলে নেন স্বপ্না। কিন্তু দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও সেই নারী আর ফেরেননি।

পরে বিমানবন্দরের আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যদের কাছে ঘটনাটি জানালে তারা শিশুসহ স্বপ্নাকে বিমানবন্দর থানায় পাঠায়। ওইদিনই বিমানবন্দর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। এরপর শিশুটিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় গত ২৫ জুলাই ঢাকার শিশু আদালতের বিচারক মো. হাফিজুর রহমান ফাতেমার প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ৯ আগস্টের মধ্যে শিশুটির প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে বের করার দিন নির্ধারণ করেন।

এছাড়া আদেশে প্রকৃত বাবা-মাকে খুঁজে না পাওয়া গেলে শিশুটিকে নিতে আগ্রহী কোনো দম্পতিকে বাছাই করে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়ার কথা জানানো হয়।

Check Also

দুই মাস লন্ডনে অবস্থানের পর আমাগী সপ্তাহে দেশে ফিরছেন খালেদা জিয়া

আলোকিত ডেক্স: চিকিৎসার জন্য প্রায় দুই মাস লন্ডনে অবস্থানের পর আমাগী সপ্তাহে দেশে ফিরছেন বিএনপি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *